বিবরণ
হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচলের ব্যঘাত জনিত টিস্যুক্ষয়কে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বলা হয়। হৃদপিন্ডের যে কোন অংশে রক্তসরবরাহ হঠাৎ বাধাপ্রাপ্ত হলে এই ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত তন্ত্র হৃদপিন্ড ও রক্তবাহ এই রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়। আক্রমণের বয়স চল্লিশ বছরের ঊর্দ্ধেই এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়।
আক্রান্ত লিঙ্গ চল্লিশ থেকে পঁয়ষট্টি বছরের মধ্যে পুরুষরাই বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়। পঁয়ষট্টি বছরের উর্দ্ধে স্ত্রী এবং পুরুষ উভয়ের সমান ভাবে আক্রান্ত হন।
Causes of the disease কারণ
• করোনারি থ্রম্বোসিস অর্থাৎ হৃদপিন্ডের রক্তবহা নালীসমূহে রক্ত জমাট বাঁধা এই রোগের প্রধান কারণ।
• হৃদপিন্ডের ধমনীর আক্ষেপ
• ধমনী প্রদাহ
• অক্সিজেন সরবরাহ কম হওয়া
• কার্বনমনোক্সাইডের বিষক্রিয়া
• উচ্চ রক্তচাপ
• মানসিক আঘাত প্রাপ্তি
• ধূমপান
প্রভৃতি এই রোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
Symptoms of the disease লক্ষণ
• হঠাৎ বাম দিকের বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়
• ক্রমশ এই যন্ত্রণা বাহু, কাঁধ, পিঠ, চোয়াল ও বাম দিকের পেট পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে
• বুকে চাপ বোধ, মনে হয় ভারি কিছু চাপানো আছে
• শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
• রক্তচাপ খুব বেড়ে যায়
• অনেক সময় দেখা যায় রক্তচাপ খুব কমে গেছে
• মাথার যন্ত্রণা হয়
• দুর্বলতা
• আকস্মিক চেতনা লোপ ঘটে
• বমি ভাব বা বমি হতে পারে
• থেমে থেমে হৃদস্পন্দন হতে দেখা যায়
• হৃদপিন্ড অস্বাভাবিক শব্দ হয় (Murmur) হৃদপিন্ডের গতি বেশি হতে পারে (Tachycardia) মৃদু হৃদস্পন্দন হতে পারে
• নাড়ীর গতি অস্বাভাবিক হয়
• মুখমণ্ডলের নীলাভ বা ফ্যাকাসে হয়
• দুশ্চিন্তাগ্ৰস্ত হতে দেখা যায়
• হঠাৎ অধিক পরিমাণে ঘাম হওয়া
• হাত ও পা ঠাণ্ডা হওয়া ঘটতে পারে
Adjunctive treatment আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
• রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে
• রোগীর ঘরে কোনরকম ভাবেই গোলমাল করা চলবে না
• রোগীর সুনিদ্রার ব্যবস্থা করতে হবে
• রোগী একটু সুস্থ হলে হালকা ও সহজপাচ্য খাদ্য খেতে দেওয়া যাবে
• লবণ ও ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ
• রোগী সুস্থ হলে হালকা ব্যায়াম, প্রাতঃভ্রমণ সান্ধ্য ভ্রমণ প্রভৃতি করা ভালো
• রোগীর মল মূত্র ত্যাগের যাতে না কোনো ব্যাঘাত ঘটে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
অনুরোধ করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
