সাদাস্রাব বিবরণ
বিভিন্ন জীবাণু দূষত হয়ে নারীর জনন অঙ্গ থেকে যখন তখন শ্লেষ্মাবৎ স্রাব নিঃসরণকে শ্বেতপ্রদর বা সাদাস্রাব বলা হয়।আক্রান্ত তন্ত্র জননতন্ত্র এই রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়।
আক্রমণের বয়স ১৪ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এই রোগ হতে দেখা যায়। আক্রান্ত লিঙ্গ কেবলমাত্র মহিলারা এই রোগে আক্রান্ত হয়।
Causes of the disease কারণ
• যোনিতে ট্রাইকোমোনা বা মনিলিয়াল জীবাণুর সংক্রমণ ঘটা
• জরায়ুর রোগে ভোগা
• গনোরিয়া বা সিফিলিস রোগে ভোগা
• রক্তশূন্যতায় ভোগা
• ঋতু কালে অপরিস্কার কাপড় চোপড় ব্যবহার
• যৌনমিলনের শেষে জনন অঙ্গ ভালো ভাবে না ধোয়া
প্রভৃতি কারণে জীবাণু দূষণ হয়ে এই রোগ হতে পারে।
Symptoms of the disease লক্ষণ
• জরায়ু গাত্র, জরায়ুর মুখ, জরায়ুগ্ৰীবা,
• যোনিনালী প্রভৃতি অংশের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী থেকে সাদা অথবা হলুদভ সাদা রঙের স্রাব নির্গত হয়
• অনেকের এই স্রাব ঋতু স্রাবের পূর্বে অনেকের ঋতুস্রাবের সাথে সাথে আবার অনেকে ঋতুর স্রাবের পর হয়
• স্রাবের সময় যোনিতে চুলকানি বা জ্বালা ভাব অনুভূত হয়
• যোনিতে ভেতরে ও বাইরে ঘা হতে পারে
• যৌনিদ্বার হেজে যাওয়ার ন্যায় হয়ে যায়
• রোগিনী ক্রমশঃ দুর্বল ও শীর্ণ হয়ে যায়
• মুখমন্ডল ফ্যাকাসে দেখায়
• চোখের কোলে কালি পড়া
• গাত্রবর্ণ বিকৃত হওয়া প্রভৃতি লক্ষ্য করা যায়
• মাথা ঘোরা ও বুক ধড়ফড় করা
• কোমরে যন্ত্রণা হওয়া ও পেটে ব্যথা যন্ত্রণা হওয়া হাতে এবং পায়ে খিল ধরা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়
• ঋতু নিয়মিত হয় না
• প্রস্রাবের জ্বালা হতে পারে
• সর্বদা জ্বর ভাব, খিটখিটে মেজাজ, ক্ষুধা মন্দ, হজমের গোলযোগ প্রভৃতি হতে পারে
• রোগ মারাত্মক ভাবে বেড়ে গেলে সর্বদা জলের ন্যায় হড়হড়িয়ে অথবা কফের ন্যায় স্রাব যোনিদ্বার দিয়ে ঝরতে থাকে
Adjunctive treatment আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
• এই রোগিনীদের পুকুরে স্নান করা নিষিদ্ধ।
• যোনিদ্বার ও যোনিনালী সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।
• যৌনমিলনের পর যোনিদ্বার ও যোনিনালী ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
• প্রয়োজনে জল অ্যান্টিসেপটিক লোশন ব্যবহার করতে হবে।
• ঋতুর সময় ঘরোয়া কাপড় ব্যবহার চলবে না।
• স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে।
• রোগিনীদের ঝাল, মসলা, টক, মাদকদ্রব্য, তামাকু প্রভৃতি সেবন নিষিদ্ধ।
• মিষ্টি ফলের রস, সবুজ শাকসবজি, দুধ, ঘি, চারা পোনা, শিঙ্গি বা মাগুর মাছের ঝোল প্রভৃতি খাওয়া চলবে।
• চিকিৎসা চলাকালীন রোগিনীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
• এই সময়ে যৌন মিলনের ও কিছুক্ষণ বন্ধ রাখতে হবে।
• বিবাহিতদের স্বামীদের লিঙ্গমুণ্ডে কিছুদিন এক নং লোশন গুলি ব্যবহার করা ভালো।
অনুরোধ করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।






