সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Aciloc RD Tablet: ব্যবহার, উপকারিতা, ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সম্পূর্ণ তথ্য

 

Aciloc RD Tablet

বর্তমান সময়ে অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা হজমের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ঝাল-তেলযুক্ত খাদ্য, মানসিক চাপ ও অনিদ্রার কারণে এসব সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এই ধরনের সমস্যার চিকিৎসায় ডাক্তাররা প্রায়ই ব্যবহার করতে বলেন, সেটি হলো Aciloc RD Tablet। 

সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল



Aciloc RD Tablet কী?

Aciloc RD Tablet হলো একটি কম্বিনেশন মেডিসিন, যা পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি মূলত অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রিক ও বুকজ্বালা মতো সমস্যায় ব্যবহৃত হয়।



Aciloc RD Tablet-এর উপাদান

সাধারণত দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে তৈরি: 

Rabeprazole

এটি পেটের ভিতরে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হওয়া কমায় এবং বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা হ্রাস করে।

Domperidone

এটি খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে, বমিভাব কমায় এবং পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দূর করে।

এই দুটি উপাদান একসাথে কাজ করে পেটের সমস্যা থেকে দ্রুত আরাম দিতে সহায়তা করে। 




Aciloc RD Tablet-এর ব্যবহার

এই ওষুধটি সাধারণত নিচের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়: 

• বমিভাব ও বমি হওয়া

• পেট ফাঁপা ও হজমে সমস্যা

• খাবার খাওয়ার পর ভারী লাগা 

• গ্যাস্ট্রিক ও গ্যাসের সমস্যা 

• অ্যাসিডিটির ও বুকজ্বালা

• GERD (Gastroesophageal Refiux Disease)



Aciloc RD Tablet কিভাবে খেতে হয়?

• ডোজ ও ব্যবহারের সময়কাল অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে

• সাধারণত সকালে খালি পেটে খেতে বলা হয়

• ট্যাবলেটটি ভাঙা বা চিবানো ছাড়া পুরোটা পানি দিয়ে গিলে ফেলতে হবে। 

• খাবারের ১৫-৩০ মিনিট আগে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী 

নিজের ইচ্ছেমতো দীর্ঘদিন এই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।



Aciloc RD Tablet-এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ওষুধ ভালোভাবে সহ্য করা যায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন:

• পেট ব্যথা

• বমিভাব 

• ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

• মাথাব্যথা

• গ্যাস বা পেট ফাঁপা 

• মুখ শুকিয়ে যাওয়া

যদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার দীর্ঘদিন বা গুরুতর হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।



Aciloc RD Tablet খাওয়ার আগে সতর্কতা

• গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি

• দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঠিক নয় 

• লিভার বা কিডনি সমস্যায় ভুগলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত 

• অন্য কোনো ওষুধ চললে তা অবশ্যই ডাক্তারকে জানাতে হবে



Aciloc RD Tablet চলাকালীন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন

ওষুধের পাশাপাশি কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়:

• অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান 

• নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন 

• ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন

• ঝাল, ভাজা ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়ে চলবে

• খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না 



গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

• Aciloc RD Tablet একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ

• শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন 

• দীর্ঘদিন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের মতামত নেওয়া উচিত


উপসংহার

Aciloc RD Tablet অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক ও হজমজনিত সমস্যার জন্য একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ওষুধ। তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা উচিত। স্বাস্থ্যকর ও খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপন পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।

 




 







এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

How to use Calcium channel blockers

সকল প্রকার হৃৎশূল উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপেশীর বিবৃদ্ধি প্রান্তস্থ রক্তবাহের সমস্যা কনজেসটিভ হার্ট ফেলিওর হার্ট অ্যাটাক ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা অন্ননালীর আক্ষেপ প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় ৫ থেকে ১৫ মিগ্ৰা ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত দেওয়া হয় ক্যালসিয়াম চ্যানেল বিপাকে প্রভাবিত কাজ করে হৃদপিন্ড চাপ উপমায় করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা ঘোরা মাথা যন্ত্রণা বমি ভাব দুর্বলতা বুক ধড়ফড়ানি নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রান্তস্থ শোথ প্রভৃতির হতে পারে সাবধানতা ডায়াবেটিস নিম্ন রক্তচাপ স্তন্যদানকাল গর্ভাবস্থায় প্রভৃতিতে ব্যবহার নিষিদ্ধ! অ্যামলোডিপিন উচ্চ রক্তচাপ অ্যাকিউট ও ক্রনিক হৃৎশূল প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় উচ্চ রক্তচাপ হৃৎশূল হার্ট অ্যাটাক রক্তাধিক্য জনিত হার্ট ফেলিওর বাম ভেন্টিকলের ৫ থেকে ১০ মিগ্ৰা দিনে ১ বার দেওয়া যায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা যন্ত্রণা ক্লান্ত স্বাভাবিক ঝিমুনি মাথা ঘোরা উত্তেজনা বুক ধড়ফড়ানি বমিভাব প্রান্তস্থ শোথ পেটে ব্যাথা প্রভৃতি হতে পারে সাধারণত যকৃতের রোগে নিম্ন রক্তচাপ গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ট্রাইমেটাজিডিন ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ অ...

How to uses Dengue uses in bangali ডেঙ্গি কী

  ডেঙ্গি হলো একটি মশা বাহিত ও ভাইরাস ঘটিত প্রাণঘাতীয় রোগ  ডেঙ্গির মশা এডিস এজিপটাই ও এডিস এলবোপিকট্রাস এই দুই স্ত্রী মশা হল ডেঙ্গির ভাইরাসের মূল বাহক এগুলি সাধারনত দিনের বেলায় কামড়ায় ডেঙ্গি হ্যামারেজিক ফিভার এর উপসর্গ জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচদিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থায় অবনতি শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে রক্তে অনুচক্রিকা  প্লেটলেট কমে যায়। রক্তচাপ কমে হাত পা ঠান্ডা হতে শুরু করে নাক মুখ বা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে অবশ্যই মনে রাখবেন ডেঙ্গির মশা দিনে কামড়ায় ও পরিস্কার জলে ডিম পাড়ে যত্রতত্র জল জমতে দেবেন না যেমন ফুলের টব বালতিতে ইত্যাদি স্বাভাবিক ডেঙ্গির উপসর্গ ১ হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসা সঙ্গে মাথা ব্যাথা ২ জ্বর একদিনের মধ্যে দেখা যায় মাথায় হাতে পায়ে গাঁটে ৩ দুই চোখের পিছনে প্রচন্ড ব্যাথা ৪ শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানি ও জ্বালা ভাব থাকে ৫ বমি ও কাঁপুনি থাকে ৬ আরো ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা  ১) প্রথমেই আতঙ্কিত না হওয়া ২) উপরের উপসর্গ মিললে হাসপাতালে যান ৩) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না ৪) বেশি পরিমাণে ডাবের জল নুন চিনি জল ORS পান করুন ৫) অল...

Haw to uses temperature in bangla তাপমাত্রা

 তাপমাত্রা  মানবদেহে তাপমাত্রার পরিমাণ জন্য থার্মোমিটার বা তাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয় এই থার্মোমিটারে ফারেন হাইট স্কেলে তৈরি তবে বর্তমানে সেন্টিগ্ৰেড এবং ফারেন হাইট উভয় স্কেলেই তৈরি হয় তবে আমার ফারেন হাইট স্কেলের রিডিং নিই এবং সহজ বোধ্য এই থার্মোমিটার যন্ত্র মানবদেহের তিন স্থানে ব্যবহার করা হয় বেশি ব্যবহার করা হয় বগলে তারপরে মুখ গহ্বরের জিভের তলায় এবং কখনো কখনো পায়ুতেও দেওয়া হয় জিভের নিচে ৯৮ ৪° ফাঃ এবং ৩৬ ৯° সেন্টিগ্ৰেড বগলের নিচে ৯৭ ৫° ফাঃ এবং ৩৬ ৪° সেন্টিগ্ৰেড পায়ুর মধ্যে ৯৯ ৫° ফাঃ এবং ৩৭ ৬° সেন্টিগ্ৰেড যদি তাপমাত্রা ১০০° বেশি ১০১° ফাঃ পর্যন্ত হয় তাহলে সামান্য জ্বর হয়েছে বলা হয় ১০১° ফাঃ এর বেশি ১০২° ফাঃ এর বেশি ১০৩° ফাঃ পর্যন্ত বেশি জ্বরের লক্ষণ এবং ১০৪°ফাঃ এর বেশী ১০৫° পর্যন্ত প্রবল জ্বরের লক্ষণ। ম্যালেরিয়া তে বেশি বা প্রবল জ্বর কোন ভয়ের কারণ নয় এতে ১০৫° এর উপরে জ্বর হয় এবং খুব শীঘ্রই জ্বর ছেড়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রা চলে আসে এই তাপমাত্রার ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি বেশি হওয়ার তেমন বিপদজনক নয় কিন্তু স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিচে ১ ডিগ্রির তাপমাত্রা কমে যাওয়া বিপদজনক ...