Cerebral Thrombosis: হলো একটি গুরুতর স্নায়ুবিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালির ভিতরে রক্ত জমাট (Blood Clot) বেঁধে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থা মূলত Ischemic stroke-এর একটি প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত।
মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন ছাড়া খুব অল্প সময়েই টিকে থাকতে পারে। তাই Cerebral Thrombosis হলে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
Cerebral Thrombosis কেন হয়? রোগের কারণ
এই রোগের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। নিচে প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করা হলো-
1. ধমনীতে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ধমনী সরু হয়ে গেলে সেখানে সহজেই রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।
2. উচ্চ রক্তচাপ (High Blood pressure)
দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা রক্ত জমাট বাঁধা ঝুঁকি বাড়ায়।
3. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্তের ঘনত্ব বাড়ায় যা প্রবণতা বাড়ায়।
4. ধূমপান ও তামাক সেবন
ধূমপান রক্তনালী সংকুচিত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়।
5. হৃদযন্ত্রের কিছু রোগ যেমন অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Atrial Fibrillation) রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
6. অতিরিক্ত স্থুলতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও এই রোগের অন্যতম কারণ।
লক্ষণসমূহ
এই রোগের লক্ষণ সাধারণ হঠাৎ দেখা দেয় এবং দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-
• মুখ বেঁকে যাওয়া
• তীব্র মাথাব্যথা
• স্মৃতিভ্রংশ বা বিভ্রান্তি
• মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতা
• শরীরে এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া
• হাত বা পা নাড়াতে অসুবিধা
• হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
• কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা
এসব লক্ষণ দেখা দিলে একে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসা পদ্ধতি
চিকিৎসা মূলত রোগীর অবস্থার তীব্রতা ও সময়ের ওপর নির্ভর করে।
1. জরুরি চিকিৎসা
• Thrombolytic Therapy: রক্ত জমাট ভাঙার ওষুধ দেওয়া হয় (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে)
• Antiplatelet ও Anticoagulant ওষুধ: রক্ত পাতলা রাখতে ব্যবহৃত হয়
2. দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা
• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ
• ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
• ফিজিওথেযাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন
3. সার্জারি (প্রয়োজনে)
কিছু ক্ষেত্রে ধমনী থেকে জমাট রক্ত সরানোর জন্য বিশেষ শল্যচিকিৎসা করা হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা না গেলেও ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব-
1. ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করা
2. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
3. পর্যাপ্ত পানি পান
4. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন
5. কম চর্বিযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
6. নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
• ন্যাসোগ্যাসট্রিক টিউবের মাধ্যমে খাদ্য খাওয়ানো দরকার। এই নলের মাধ্যমে ফলের রস, গ্লুকোজের জল, দুধ, হরলিকস প্রভৃতি দেওয়া যায়।
• পায়খানা স্বাভাবিকভাবে হওয়ানোর জন্য এনিমা ব্যবহার করা চলবে।
• প্রস্রাব ঠিকভাবে না হলে ক্যাথিটার ব্যবহার করা প্রস্রাব করিয়ে দিতে হবে।
• রোগী একভাবে পড়ে থাকলে তার যাতে বেডসোর (Bedsore) অর্থাৎ শয্যাক্ষত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। শরীরে সমস্ত ঘর্ষণ প্রাপ্ত অংশগুলি প্রত্যহ স্পিরিট দিয়ে মুছে যে কোন ট্যালকম পাওডার ব্যবহার করা ভালো। শয্যিক্ষত হতে শুরু করলে Mycodermn পাওডার ব্যবহার করা ভাল।
অনুরোধ করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তার বাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
