সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

How to Use Parkinson's Disease: পারকিনসন রোগ: কারণ, লক্ষণ, ও চিকিৎসা

 

How to Use Parkinson's Disease

Parkinson's Disease: বা পারকিনসন রোগ হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক (Neurological) রোগ, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এই রোগ মূলত শরীরের চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে হয়। পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে নড়াচড়া করতে অসুবিধা, হাত-পা কাঁপা এবং শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন।

এই রোগ সাধারণত ৫০ বছরের পর বেশি দেখা যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সীদের মধ্যেও পারকিনসন রোগ হতে পারে।



Parkinson's Disease হওয়ার কারণ

পারকিনসন রোগের সুনির্দিষ্ট একটি কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে নিচের কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:

1. ডোপামিন হরমোনের ঘাটতি

মস্তিষ্কের একটি অংশে ডোপামিন নামক রাসায়নিকের উৎপাদন কমে গেলে পারকিনসন রোগ দেখা দেয়।

2. স্নায়ুকোষের ক্ষয়

মস্তিষ্কের Substantia Nigra অংশের স্নায়ুকোষ নষ্ট হলে এই রোগ হয়।

3. বংশগত কারণ

পরিবারের কারও পারকিনসন রোগ থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

4. বয়সজনিত পরিবর্তন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্নায়ুকোষ দুর্বল হয়ে পড়ে।

5. পরিবেশগত কারণ

অতিরিক্ত কীটনাশক, রাসায়নিক পদার্থ বা বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।



Parkinson's Disease এর লক্ষণ

পারকিনসন রোগের লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে।

প্রাথমিক লক্ষণ

• মুখের ভাব কমে যাওয়া

• কথা বলার গতি ধীর হওয়া

• শরীরের এক পাশ দুর্বল লাগে

• হাত বা আঙ্গুলে হালকা কাঁপুনি

উন্নত পর্যায়ের লক্ষণ

• হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো 

• ধীরগতির চলাফেরা (Bradykinesia)

• স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া 

• বিষন্নতা ও ঘুমের সমস্যা

• হাত, পা বা মাথা কাঁপা (Tremor)

• শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া (Muscle Rigidity)




Parkinson's Disease এর চিকিৎসা

পারকিনসন রোগ পুরোপুরি ভালো করার ওষুধ এখানো আবিষ্কৃত হয়নি, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

1. ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা

• Levodopa

• Dopamine Agonists

• MAO-B Inhibitor

এই ওষুধগুলো ডোপামিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং উপসর্গ কমায়।

2. ফিজিওথেরপি

• শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে

• চলাফেরার সমস্যা কমায়

3. স্পিচ থেরাপি

• কথা বলার অসুবিধা কমাতে সহায়ক

4. সার্জারি (গুরুতর ক্ষেত্রে)

Deep Brain Stimulation (DBS) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়

5. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

• নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

• পুষ্টিকর খাবার

• পর্যাপ্ত ঘুম

• মানসিক চাপ কমানো



Parkinson's Disease প্রতিরোধ করা যায় কি?

পারকিনসন রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায় না, তবে ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে:

• নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

• রাসায়নিক পদার্থ এড়িয়ে চলা

• নিয়মিত ব্যায়াম

• স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন



আনুষঙ্গিক চিকিৎসা

1. রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।

2. রোগীর বসার চেয়ার, খাবার পাত্রাদিসমূহ, শয‌্যা, টয়লেট সিট এমনভাবে বানাতে হবে যা রোগীকে সহজভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে।

3. রোগীকে অল্প অল্প করে বারংবার খেতে দিতে হবে।

4. প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খাওয়ানো কোন বিধি-নিষেধ নেই। তরল খাবার আধিক পরিমাণে খাওয়া ভালো। জল প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। 

5. ব্যায়াম ও ম্যাসাজ থেরাপি রোগীর পক্ষে ভাল।


এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।


এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

How to use Calcium channel blockers

সকল প্রকার হৃৎশূল উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপেশীর বিবৃদ্ধি প্রান্তস্থ রক্তবাহের সমস্যা কনজেসটিভ হার্ট ফেলিওর হার্ট অ্যাটাক ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা অন্ননালীর আক্ষেপ প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় ৫ থেকে ১৫ মিগ্ৰা ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত দেওয়া হয় ক্যালসিয়াম চ্যানেল বিপাকে প্রভাবিত কাজ করে হৃদপিন্ড চাপ উপমায় করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা ঘোরা মাথা যন্ত্রণা বমি ভাব দুর্বলতা বুক ধড়ফড়ানি নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রান্তস্থ শোথ প্রভৃতির হতে পারে সাবধানতা ডায়াবেটিস নিম্ন রক্তচাপ স্তন্যদানকাল গর্ভাবস্থায় প্রভৃতিতে ব্যবহার নিষিদ্ধ! অ্যামলোডিপিন উচ্চ রক্তচাপ অ্যাকিউট ও ক্রনিক হৃৎশূল প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় উচ্চ রক্তচাপ হৃৎশূল হার্ট অ্যাটাক রক্তাধিক্য জনিত হার্ট ফেলিওর বাম ভেন্টিকলের ৫ থেকে ১০ মিগ্ৰা দিনে ১ বার দেওয়া যায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা যন্ত্রণা ক্লান্ত স্বাভাবিক ঝিমুনি মাথা ঘোরা উত্তেজনা বুক ধড়ফড়ানি বমিভাব প্রান্তস্থ শোথ পেটে ব্যাথা প্রভৃতি হতে পারে সাধারণত যকৃতের রোগে নিম্ন রক্তচাপ গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ট্রাইমেটাজিডিন ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ অ...

How to uses Dengue uses in bangali ডেঙ্গি কী

  ডেঙ্গি হলো একটি মশা বাহিত ও ভাইরাস ঘটিত প্রাণঘাতীয় রোগ  ডেঙ্গির মশা এডিস এজিপটাই ও এডিস এলবোপিকট্রাস এই দুই স্ত্রী মশা হল ডেঙ্গির ভাইরাসের মূল বাহক এগুলি সাধারনত দিনের বেলায় কামড়ায় ডেঙ্গি হ্যামারেজিক ফিভার এর উপসর্গ জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচদিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থায় অবনতি শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে রক্তে অনুচক্রিকা  প্লেটলেট কমে যায়। রক্তচাপ কমে হাত পা ঠান্ডা হতে শুরু করে নাক মুখ বা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে অবশ্যই মনে রাখবেন ডেঙ্গির মশা দিনে কামড়ায় ও পরিস্কার জলে ডিম পাড়ে যত্রতত্র জল জমতে দেবেন না যেমন ফুলের টব বালতিতে ইত্যাদি স্বাভাবিক ডেঙ্গির উপসর্গ ১ হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসা সঙ্গে মাথা ব্যাথা ২ জ্বর একদিনের মধ্যে দেখা যায় মাথায় হাতে পায়ে গাঁটে ৩ দুই চোখের পিছনে প্রচন্ড ব্যাথা ৪ শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানি ও জ্বালা ভাব থাকে ৫ বমি ও কাঁপুনি থাকে ৬ আরো ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা  ১) প্রথমেই আতঙ্কিত না হওয়া ২) উপরের উপসর্গ মিললে হাসপাতালে যান ৩) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না ৪) বেশি পরিমাণে ডাবের জল নুন চিনি জল ORS পান করুন ৫) অল...

Haw to uses temperature in bangla তাপমাত্রা

 তাপমাত্রা  মানবদেহে তাপমাত্রার পরিমাণ জন্য থার্মোমিটার বা তাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয় এই থার্মোমিটারে ফারেন হাইট স্কেলে তৈরি তবে বর্তমানে সেন্টিগ্ৰেড এবং ফারেন হাইট উভয় স্কেলেই তৈরি হয় তবে আমার ফারেন হাইট স্কেলের রিডিং নিই এবং সহজ বোধ্য এই থার্মোমিটার যন্ত্র মানবদেহের তিন স্থানে ব্যবহার করা হয় বেশি ব্যবহার করা হয় বগলে তারপরে মুখ গহ্বরের জিভের তলায় এবং কখনো কখনো পায়ুতেও দেওয়া হয় জিভের নিচে ৯৮ ৪° ফাঃ এবং ৩৬ ৯° সেন্টিগ্ৰেড বগলের নিচে ৯৭ ৫° ফাঃ এবং ৩৬ ৪° সেন্টিগ্ৰেড পায়ুর মধ্যে ৯৯ ৫° ফাঃ এবং ৩৭ ৬° সেন্টিগ্ৰেড যদি তাপমাত্রা ১০০° বেশি ১০১° ফাঃ পর্যন্ত হয় তাহলে সামান্য জ্বর হয়েছে বলা হয় ১০১° ফাঃ এর বেশি ১০২° ফাঃ এর বেশি ১০৩° ফাঃ পর্যন্ত বেশি জ্বরের লক্ষণ এবং ১০৪°ফাঃ এর বেশী ১০৫° পর্যন্ত প্রবল জ্বরের লক্ষণ। ম্যালেরিয়া তে বেশি বা প্রবল জ্বর কোন ভয়ের কারণ নয় এতে ১০৫° এর উপরে জ্বর হয় এবং খুব শীঘ্রই জ্বর ছেড়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রা চলে আসে এই তাপমাত্রার ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি বেশি হওয়ার তেমন বিপদজনক নয় কিন্তু স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিচে ১ ডিগ্রির তাপমাত্রা কমে যাওয়া বিপদজনক ...