সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Neurobion Forte Tablet: ব্যবহার, উপকারিতা, ডোজ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

 

Neurobion Forte Tablet

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ভিটামিনের ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে Vitamin B-complex এর অভাবে স্নায়ু দুর্বলতা, হাত-পা ঝিনঝিন করা, ক্লান্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তা হলো Neurobion Forte Tablet।

এই আর্টিকেলে সম্পর্কে বিস্তারিত ও সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো। 



Neurobion Forte Tablet কী?

Neurobion Forte হলো একটি Vitamin B-complex সাপ্লিমেন্ট, যা মূলত স্নায়ু শক্তিশালী করা এবং শরীরে ভিটামিন বি-এর ঘাটতি পূরণ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি নিয়মিত গ্রহণ করলে স্নায়ু জনিত বিভিন্ন সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।



এর উপকারিতা

নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোর থেকে উপকারী: 

1. ভিটামিন বি-এর ঘাটতি

2. অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি

3. শরীরের এনার্জি লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে

4. স্নায়ু দুর্বলতা ও নার্ভ পেইন

5. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক

6. হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অবশ লাগা

7. ডায়াবেটিস জনিত নিউরোপ্যাথি



এর উপাদান (Composition)

প্রতিটি ট্যাবলেটের সাধারণত নিচের ভিটামিন গুলোর থাকে: 

Vitamin B1 (Thiamine)

• Vitamin B2 (Riboflavin)

• Vitamin B3 (Niacinamide)

• Vitamin B5 (Calcium Pantothenate)

• Vitamin B6 (Pyridoxine)

• Vitamin B12 (Cyanocobalamin)

এই ভিটামিনগুলো একসাথে কাজ করে স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও শরীরের শক্তি উৎপাদনের সহায়তা করে।



কীভাবে কাজ করে?

এই ওষধে থাকা Vitamin B-complex স্নায়ুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করতে সাহায্য করে এবং নতুন স্নায়ুকোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করে, ফলে শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করে পায় এবং দুর্বলতা কমে।



ডোজ (Uses)

 সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য:

1. শিশুদের ক্ষেত্রে এই মেডিসিন টি চলবে না

2. প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১টি ট্যাবলেট খাবারের পরে

ডোজ রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তত হতে পারে। নিজে নিজে ডোজ বাড়ানো বা কমানো উচিত নয়। 



এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects)

সাধারণত এটি নিরাপদ ও সহনশীল একটি ওষুধ। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিচের হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে:

১. হালকা ডায়রিয়া

২. পেটের অস্বস্তি

৩. বমি বমি ভাব 

৪. অ্যালার্জিক (খুব বিরল)

যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুরুতর হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।



সতর্কতা

• গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করবেন না

• দীর্ঘদিন ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি 

• অন্য কোনো ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট একসাথে খেলে জানাতে হবে



প্রতিদিন খাওয়া যায়? 

হ্যাঁ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাওয়া যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত মেডিক্যাল পরামর্শ নেওয়া উচিত।



খাওয়া যাবে না কাদের?

1. শিশুদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়

2. গুরুতর লিডার বা কিডনির সমস্যায় সতর্কতা প্রয়োজন

3. যাদের Vitamin B-complex এ অ্যালার্জি আছে



উপসংহার

Neurobion Forte Tablet একটি কার্যকর ও নিরাপদ Vitamin B-complex সাপ্লিমেন্ট, যা স্নায়ু জনিত সমস্যা ও ভিটামিন বি-এর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক ডোজ ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করলে এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।








এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

How to use Calcium channel blockers

সকল প্রকার হৃৎশূল উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপেশীর বিবৃদ্ধি প্রান্তস্থ রক্তবাহের সমস্যা কনজেসটিভ হার্ট ফেলিওর হার্ট অ্যাটাক ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা অন্ননালীর আক্ষেপ প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় ৫ থেকে ১৫ মিগ্ৰা ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত দেওয়া হয় ক্যালসিয়াম চ্যানেল বিপাকে প্রভাবিত কাজ করে হৃদপিন্ড চাপ উপমায় করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা ঘোরা মাথা যন্ত্রণা বমি ভাব দুর্বলতা বুক ধড়ফড়ানি নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রান্তস্থ শোথ প্রভৃতির হতে পারে সাবধানতা ডায়াবেটিস নিম্ন রক্তচাপ স্তন্যদানকাল গর্ভাবস্থায় প্রভৃতিতে ব্যবহার নিষিদ্ধ! অ্যামলোডিপিন উচ্চ রক্তচাপ অ্যাকিউট ও ক্রনিক হৃৎশূল প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় উচ্চ রক্তচাপ হৃৎশূল হার্ট অ্যাটাক রক্তাধিক্য জনিত হার্ট ফেলিওর বাম ভেন্টিকলের ৫ থেকে ১০ মিগ্ৰা দিনে ১ বার দেওয়া যায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা যন্ত্রণা ক্লান্ত স্বাভাবিক ঝিমুনি মাথা ঘোরা উত্তেজনা বুক ধড়ফড়ানি বমিভাব প্রান্তস্থ শোথ পেটে ব্যাথা প্রভৃতি হতে পারে সাধারণত যকৃতের রোগে নিম্ন রক্তচাপ গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ট্রাইমেটাজিডিন ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ অ...

How to uses Dengue uses in bangali ডেঙ্গি কী

  ডেঙ্গি হলো একটি মশা বাহিত ও ভাইরাস ঘটিত প্রাণঘাতীয় রোগ  ডেঙ্গির মশা এডিস এজিপটাই ও এডিস এলবোপিকট্রাস এই দুই স্ত্রী মশা হল ডেঙ্গির ভাইরাসের মূল বাহক এগুলি সাধারনত দিনের বেলায় কামড়ায় ডেঙ্গি হ্যামারেজিক ফিভার এর উপসর্গ জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচদিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থায় অবনতি শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে রক্তে অনুচক্রিকা  প্লেটলেট কমে যায়। রক্তচাপ কমে হাত পা ঠান্ডা হতে শুরু করে নাক মুখ বা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে অবশ্যই মনে রাখবেন ডেঙ্গির মশা দিনে কামড়ায় ও পরিস্কার জলে ডিম পাড়ে যত্রতত্র জল জমতে দেবেন না যেমন ফুলের টব বালতিতে ইত্যাদি স্বাভাবিক ডেঙ্গির উপসর্গ ১ হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসা সঙ্গে মাথা ব্যাথা ২ জ্বর একদিনের মধ্যে দেখা যায় মাথায় হাতে পায়ে গাঁটে ৩ দুই চোখের পিছনে প্রচন্ড ব্যাথা ৪ শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানি ও জ্বালা ভাব থাকে ৫ বমি ও কাঁপুনি থাকে ৬ আরো ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা  ১) প্রথমেই আতঙ্কিত না হওয়া ২) উপরের উপসর্গ মিললে হাসপাতালে যান ৩) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না ৪) বেশি পরিমাণে ডাবের জল নুন চিনি জল ORS পান করুন ৫) অল...

Haw to uses temperature in bangla তাপমাত্রা

 তাপমাত্রা  মানবদেহে তাপমাত্রার পরিমাণ জন্য থার্মোমিটার বা তাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয় এই থার্মোমিটারে ফারেন হাইট স্কেলে তৈরি তবে বর্তমানে সেন্টিগ্ৰেড এবং ফারেন হাইট উভয় স্কেলেই তৈরি হয় তবে আমার ফারেন হাইট স্কেলের রিডিং নিই এবং সহজ বোধ্য এই থার্মোমিটার যন্ত্র মানবদেহের তিন স্থানে ব্যবহার করা হয় বেশি ব্যবহার করা হয় বগলে তারপরে মুখ গহ্বরের জিভের তলায় এবং কখনো কখনো পায়ুতেও দেওয়া হয় জিভের নিচে ৯৮ ৪° ফাঃ এবং ৩৬ ৯° সেন্টিগ্ৰেড বগলের নিচে ৯৭ ৫° ফাঃ এবং ৩৬ ৪° সেন্টিগ্ৰেড পায়ুর মধ্যে ৯৯ ৫° ফাঃ এবং ৩৭ ৬° সেন্টিগ্ৰেড যদি তাপমাত্রা ১০০° বেশি ১০১° ফাঃ পর্যন্ত হয় তাহলে সামান্য জ্বর হয়েছে বলা হয় ১০১° ফাঃ এর বেশি ১০২° ফাঃ এর বেশি ১০৩° ফাঃ পর্যন্ত বেশি জ্বরের লক্ষণ এবং ১০৪°ফাঃ এর বেশী ১০৫° পর্যন্ত প্রবল জ্বরের লক্ষণ। ম্যালেরিয়া তে বেশি বা প্রবল জ্বর কোন ভয়ের কারণ নয় এতে ১০৫° এর উপরে জ্বর হয় এবং খুব শীঘ্রই জ্বর ছেড়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রা চলে আসে এই তাপমাত্রার ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি বেশি হওয়ার তেমন বিপদজনক নয় কিন্তু স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিচে ১ ডিগ্রির তাপমাত্রা কমে যাওয়া বিপদজনক ...