সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Shelcal Tablet: ব্যবহার, উপকারিতা, ডোজ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় (সম্পূর্ণ গাইড)

 

Shelcal Tablet

বর্তমান সময়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি একটি খুবই সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। হাড় দুর্বল হওয়া, দাঁতের সমস্যা, পেশিতে ব্যথা কিংবা শরীর ক্লান্ত লাগা-এই সব কিছুর পেছনে অনেক সময় ক্যালসিয়ামের অভাব দায়ী থাকে। এর ঘাটতি পূরণে বহুল ব্যবহৃত একটি সাপ্লিমেন্ট হলো Shelcal Tablet। এই আর্টিকেল  Shelcal Tablet সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 



Shelcal Tablet কী?

Shelcal Tablet মূলত একটি ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, যা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এটি হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিভিন্ন হাড়সংক্রান্ত সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। 



Shelcal Tablet-এর উপাদান (Composition)

Shelcal Tablet সাধারণত নিচের উপাদানগুলো নিয়ে তৈরি:

Calcium Carbonate - শরীরে ক্যালসিয়াম চাহিদার পূরণ করে 

Vitamin D3 (Cholecalciferol) - ক্যালসিয়ামের শোষণে সাহায্য করে

Vitamin D3 না থাকলে শরীর ক্যালসিয়াম ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, তাই Shelcal Tablet-এ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।



Shelcal Tablet-এর উপকারিতা

Shelcal Tablet ব্যবহারের প্রধান উপকারিতাগুলো হলো:

• বয়স্কদের হাড় দুর্বল হওয়া রোধ করে

• পেশির খিঁচুনি ও হাড়ের ব্যথা কমাতে সহায়ক

• হাড় ও দাঁত মজবুত করে 

• গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে

• অস্টিওপোরোসিস (হাড় ক্ষয়) প্রতিরোধ সহায়ক

• ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে



Shelcal Tablet কোন কোন সমস্যার ব্যবহার করা হয়?

এই ট্যাবলেট সাধারণত নিচের অবস্থাগুলোতে ব্যবহার করা হয়:

• হাড় দুর্বলতা 

• গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হলে

• দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ সেবনের ফলে হাড় ক্ষয় হলে

• Osteoporosis

• মেনোপজ পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে 

• ক্যালসিয়াম ডেফিসিয়েন্সি



Shelcal Tablet খাওয়ার নিয়ম ও ডোজ

• সাধারণত দিনে ১টি ট্যাবলেট খাবারের পর খাওয়ার হয়

• জল ও দুধের সাথে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায় 

• ট্যাবলেটটি ভালোভাবে চিবিয়ে বা গিলে খেতে হয় (ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী)

সঠিক ডোজ রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ওপর নির্ভর করে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম।



Shelcal Tablet-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 

সাধারণত এটি নিরাপদ, তবে কিছু ক্ষেত্রে হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:

• বমি বমি ভাব 

• কোষ্ঠকাঠিন্য 

• পেটে অস্বস্তি

• পেট ফাঁপা 

খুব বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সেবনে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।



Shelcal Tablet খাওয়ার আগে সতর্কতা

নিচের অবস্থায় সতর্কতার সাথে সেবন করা উচিত:

• কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে 

• অন্য কোন ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট একসাথে খেলে 

• কিডনির সমস্যা থাকলে 

• রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে 



গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে Shelcal Tablet

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে Shelcal Tablet সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয় এবং অনেক সময় ডাক্তাররা এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।



Shelcal Tablet সংরক্ষণের নিয়ম

• শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন 

• সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখুন 

• শুষ্ক ও স্থানে রাখুন



উপসংহার

Shelcal Tablet ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে একটি কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত সাপ্লিমেন্ট। সঠিক নিয়মে ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে এটি হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে যেকোনো ওষুধের মতোই এটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করাই নিরাপদ।

এই আর্টিকেলটি করে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে যোগ্য অবশ্যই ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

How to use Calcium channel blockers

সকল প্রকার হৃৎশূল উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপেশীর বিবৃদ্ধি প্রান্তস্থ রক্তবাহের সমস্যা কনজেসটিভ হার্ট ফেলিওর হার্ট অ্যাটাক ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা অন্ননালীর আক্ষেপ প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় ৫ থেকে ১৫ মিগ্ৰা ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত দেওয়া হয় ক্যালসিয়াম চ্যানেল বিপাকে প্রভাবিত কাজ করে হৃদপিন্ড চাপ উপমায় করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা ঘোরা মাথা যন্ত্রণা বমি ভাব দুর্বলতা বুক ধড়ফড়ানি নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রান্তস্থ শোথ প্রভৃতির হতে পারে সাবধানতা ডায়াবেটিস নিম্ন রক্তচাপ স্তন্যদানকাল গর্ভাবস্থায় প্রভৃতিতে ব্যবহার নিষিদ্ধ! অ্যামলোডিপিন উচ্চ রক্তচাপ অ্যাকিউট ও ক্রনিক হৃৎশূল প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয় উচ্চ রক্তচাপ হৃৎশূল হার্ট অ্যাটাক রক্তাধিক্য জনিত হার্ট ফেলিওর বাম ভেন্টিকলের ৫ থেকে ১০ মিগ্ৰা দিনে ১ বার দেওয়া যায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা যন্ত্রণা ক্লান্ত স্বাভাবিক ঝিমুনি মাথা ঘোরা উত্তেজনা বুক ধড়ফড়ানি বমিভাব প্রান্তস্থ শোথ পেটে ব্যাথা প্রভৃতি হতে পারে সাধারণত যকৃতের রোগে নিম্ন রক্তচাপ গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ট্রাইমেটাজিডিন ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ অ...

How to uses Dengue uses in bangali ডেঙ্গি কী

  ডেঙ্গি হলো একটি মশা বাহিত ও ভাইরাস ঘটিত প্রাণঘাতীয় রোগ  ডেঙ্গির মশা এডিস এজিপটাই ও এডিস এলবোপিকট্রাস এই দুই স্ত্রী মশা হল ডেঙ্গির ভাইরাসের মূল বাহক এগুলি সাধারনত দিনের বেলায় কামড়ায় ডেঙ্গি হ্যামারেজিক ফিভার এর উপসর্গ জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচদিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থায় অবনতি শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে রক্তে অনুচক্রিকা  প্লেটলেট কমে যায়। রক্তচাপ কমে হাত পা ঠান্ডা হতে শুরু করে নাক মুখ বা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে অবশ্যই মনে রাখবেন ডেঙ্গির মশা দিনে কামড়ায় ও পরিস্কার জলে ডিম পাড়ে যত্রতত্র জল জমতে দেবেন না যেমন ফুলের টব বালতিতে ইত্যাদি স্বাভাবিক ডেঙ্গির উপসর্গ ১ হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসা সঙ্গে মাথা ব্যাথা ২ জ্বর একদিনের মধ্যে দেখা যায় মাথায় হাতে পায়ে গাঁটে ৩ দুই চোখের পিছনে প্রচন্ড ব্যাথা ৪ শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানি ও জ্বালা ভাব থাকে ৫ বমি ও কাঁপুনি থাকে ৬ আরো ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা  ১) প্রথমেই আতঙ্কিত না হওয়া ২) উপরের উপসর্গ মিললে হাসপাতালে যান ৩) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না ৪) বেশি পরিমাণে ডাবের জল নুন চিনি জল ORS পান করুন ৫) অল...

Haw to uses temperature in bangla তাপমাত্রা

 তাপমাত্রা  মানবদেহে তাপমাত্রার পরিমাণ জন্য থার্মোমিটার বা তাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয় এই থার্মোমিটারে ফারেন হাইট স্কেলে তৈরি তবে বর্তমানে সেন্টিগ্ৰেড এবং ফারেন হাইট উভয় স্কেলেই তৈরি হয় তবে আমার ফারেন হাইট স্কেলের রিডিং নিই এবং সহজ বোধ্য এই থার্মোমিটার যন্ত্র মানবদেহের তিন স্থানে ব্যবহার করা হয় বেশি ব্যবহার করা হয় বগলে তারপরে মুখ গহ্বরের জিভের তলায় এবং কখনো কখনো পায়ুতেও দেওয়া হয় জিভের নিচে ৯৮ ৪° ফাঃ এবং ৩৬ ৯° সেন্টিগ্ৰেড বগলের নিচে ৯৭ ৫° ফাঃ এবং ৩৬ ৪° সেন্টিগ্ৰেড পায়ুর মধ্যে ৯৯ ৫° ফাঃ এবং ৩৭ ৬° সেন্টিগ্ৰেড যদি তাপমাত্রা ১০০° বেশি ১০১° ফাঃ পর্যন্ত হয় তাহলে সামান্য জ্বর হয়েছে বলা হয় ১০১° ফাঃ এর বেশি ১০২° ফাঃ এর বেশি ১০৩° ফাঃ পর্যন্ত বেশি জ্বরের লক্ষণ এবং ১০৪°ফাঃ এর বেশী ১০৫° পর্যন্ত প্রবল জ্বরের লক্ষণ। ম্যালেরিয়া তে বেশি বা প্রবল জ্বর কোন ভয়ের কারণ নয় এতে ১০৫° এর উপরে জ্বর হয় এবং খুব শীঘ্রই জ্বর ছেড়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রা চলে আসে এই তাপমাত্রার ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি বেশি হওয়ার তেমন বিপদজনক নয় কিন্তু স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিচে ১ ডিগ্রির তাপমাত্রা কমে যাওয়া বিপদজনক ...