রোগের বিবরণ
পেটের নারী অর্থাৎ তন্ত্র অন্ত্রবরক ঝিল্লিসহ বা ঝিল্লি ভেদ করে যদি কুঁচকির ছিদ্র পথে বা অগুকোষে নেমে যায় তাহলে ঐ অংশে প্রদাহ হতে থাকে এবং এই আবদ্ধ অবস্থায় বেশি দিন থাকলে পচন সুরু হতে পারে। ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। একেই হার্নিয়া(Hernia) বা অন্ত্র বৃদ্ধি বলে। অনেক সময় অন্ত্র আপনা আপনি স্বস্থানে ফিরে আসে ফলে ব্যাথা যন্ত্রণা হতে হতে হঠাৎ ভালো হয়ে যায় একে ( Re Ducible Hernia) বলা হয়। আর যদি আপনাআপনি না ফিরে এসে আবদ্ধ হয়ে থাকে ফলে ব্যাথা যন্ত্রণা চলতেই থাকে একে বলে (Obstructed Hernia) বলে এতে চাপ বৃদ্ধি পেতে রক্ত চলাচলের ব্যাঘাতের ফলে অন্ত্রে পচন সৃষ্টি হয়। একে (Strangulated Hernia) বলে।
আক্রান্ত তন্ত্র
পৌষ্টিকতন্ত্র ত্বক প্রভৃতি এই রোগের ফলে আক্রান্ত হয়।
আক্রমণের বয়স বয়স্কদেরই এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়।
আক্রান্ত লিঙ্গ পুরুষেরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। মহিলারা খুবই কমই আক্রান্ত হয়।
রোগের কারণ
পেটে আঘাত লাগা ভারোত্তলন কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু মলত্যাগ কালে অধিক কোঁথ দেওয়া অতিরিক্ত পরিশ্রম করা অতিরিক্ত হাঁচি বা কাশি হওয়া জোরে চিৎকার করা প্রভৃতি এই রোগের সৃষ্টি হয়।
রোগের লক্ষণ
১ জ্বর হতে পারে।
২ অন্ত্র যে অংশে নেমে আসে সেই অংশ ফুলে ওঠে।
৩ এবং হাত দিয়ে চাপলে তা অনুভব করা যায়।
৪ পেট ফোলা পেটে ব্যাথা হতে পারে।
৫ নাভির চারিপাশে সেঁটে ধরার ন্যায় যন্ত্রণা হতে থাকে।
৬ পেটে প্রচন্ড যন্ত্রণা এবং গা বমি বা বমি হয়।
৭ অত্যধিক যন্ত্রণা হলে রোগীর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
৮ হেঁচকি হতে পারে।
চিকিৎসা
আক্রমণের প্রথম অবস্থায় রোগীকে মাতা নিচের দিকে রেখে চিৎ করে শোয়াতে হবে। পা উঁচু করে তুলে ধরতে অন্ত্র নেমে স্বস্থানে ফিরে আসতে পারে। যদি অন্ত্র স্বস্থানে ফিরে আসে তাহলে ঐ অবস্থায় পেটে চেপে বেঁধে দিতে হবে। তাহলে পুনরায় অন্ত্র বৃদ্ধি ঘটে না। কিন্তু Obstructed বা Strangulated হার্নিয়া হলে শীঘ্র অস্ত্রোপাচার করাই ভালো।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
আক্রমণ অবস্থায় ব্যথা জায়গায় গরম জল অথবা বরফ দ্বারা মালিশ করা ভালো। হালকা ও পুষ্টিকর খাদ্য খেতে হবে। কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোমরের বেল্ট বাঁধলে অনেকটা সুফল পাওয়া যায়।
