Mumps কী?
বিশেষ ধরনের ভাইরাস আক্রমণে প্যারোটিভ গ্ৰন্থির প্রদানকে কর্ণমূল প্রদান বা মাম্পস বলা হয়। এই রোগ শীতের শেষে এবং বসন্তকালে অধিক পরিমাণে হতে দেখা যায়। লাসিকাতন্ত্র, চর্ম, রোগ প্রতিরোধ তন্ত্র, রক্ত এবং কষ্কালতন্ত্র এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। ১৫ বছরের নিচের কিশোরের ও শিশুদের এই রোগ বেশি হয়। বয়স্কদের এই রোগ হতে পারে এবং হলে তা বিপজ্জনক হয়। শরীরের রোগ জীবাণু প্রবেশের ১৪ থেকে ২৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। Mumps (মাম্পস) একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত লালা গ্রন্থি (Salivary glands), বিশেষ করে কানের নিচে চোয়ালের পাশে থাকা Parotid gland এ ফোলা ভাব সৃষ্টি করে। এই রোগটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও কিশোরও প্রাপ্তবয়স্কদের আক্রান্ত করতে পারে।
রোগের কারণ
মাম্পস প্যারামিক্সোভাইরাস Mumps virus পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
সংক্রমণের প্রধান উপায়
মাম্পস ভাইরাস খুব সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণের সাধারণত কারণগুলো হলো:
১. আক্রান্ত রোগীর হাঁচি ও কাশি শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসের ছড়ানো ভাইরাস
২. প্রথমে কানের গোড়ার দিকে প্যারোটিভ গ্ৰন্থিতে ব্যথা হয়
৩. জনাকীর্ণ স্থান যেমন স্কুল, হোস্টেলে বা ডে-কেয়ার সেন্টার
৪. একই গ্লাস, চামচ, প্লেট বা বোতল ব্যবহার করা
৫. আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি দীর্ঘ সময় অবস্থান করা
সংক্রমণের সময়কাল
ভাইরাস শরীরের প্রবেশ করার পর সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায় এই সময়কে ইউকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়।
লক্ষণ Symptoms
সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে লক্ষণগুলো সাধারণ জ্বর বা ভাইরাস জ্বরের মতো মনে হতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ
১. ৩ দিন পর্যন্ত ফোলা ভাব বাড়তে থাকে
২. এবং ৭ দিন পর্যন্ত ফোলা ভাব বজায় থাকে
৩. খাওয়ার সময় যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়
৪. ঠান্ডা পানির খেলেও যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়
৫. জ্বর হতে পারে
৬. বয়স্কদের সচরাচর জ্বর হয় না
৭. ঘাড়ের পেশির ব্যথা যন্ত্রণা অনুভব হয়
৮. গলার পেশিতে ব্যথা যন্ত্রণা অনুভব হয়
৯. হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
১০. ক্ষুধামন্দা
১১. ক্লান্তি অনুভব করা
১২. শরীরের ব্যথা ও দুর্বলতা
প্রধান ও নির্দিষ্ট লক্ষণ
১. গলার চাছি নিয়ে পরীক্ষা করলে ভাইরাসের উপস্থিতি জানা যায়
২. কোন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধে প্রতিরোধ বা রোগের বৃদ্ধি কমানো সম্ভব নয়
৩. একই সময়ে অনেক রোগী হতে দেখা যায়
৪. রোগের লক্ষণ দেখা অনুমান করা যায়
৫. মুখ খুলতে অসুবিধা
৬. চিবাতে বা গিলতে ব্যথা
৭. কানের নিচে বা চোয়ালের পাশে এক বা দুই পাশের লাল গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
৮. সিরাম অ্যামাইলেজ বৃদ্ধি পায়
শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লক্ষণ
• অতিরিক্ত কান্নাকাটি
• মুখে ব্যথার কারণে অস্বস্তি
• খেতে অনীহা
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য লক্ষণ
১. লালা গ্ৰন্থির তীব্র ফোলাভাব ও ব্যথা
২. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
৩. তীব্র জ্বর
কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?
নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
• মুখ পুরোপুরি খুলতে না পারা
• শিশু অতিরিক্ত দুর্বল বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে
• জ্বর খুব বেশি বেড়ে যাওয়া
• ফোলা ভাব অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত হওয়া
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
1. আক্রান্ত শিশুকে অবশ্যই পৃথক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
2. ঠান্ডা লাগানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
3. আক্রান্ত অংশে গরম সেঁক দেওয়া ভালো।
4. প্রথমে অবস্থায় রোগীকে চিবিয়ে যাতে না খেতে হয় এমন খাদ্য দেওয়াই ভালো।
5. ৩ থেকে ৪ দিন পর থেকে সুসিদ্ধ ভাত ও ঝোল খাওয়া চলবে।
6. তরল খাদ্য সর্বদা গরম হলে ভালো হয়।
অনুরোধ করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
