Small Pox কী?
Small Pox (গুটিবসন্ত): গুটি বসন্তের উদ্ভেদ অর্থাৎ গুটি মুখমন্ডল, বাহুর নিম্নাংশ, হাঁটুর নিম্নাংশ প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বের হয়। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ২-৪ গুটি বের হয়। যে সমস্ত স্থানে চামড়ার ভাঁজ পড়ে সে সকল স্থানে কোন গুটি দেখা যায় না। রোগ শুরুর পর ৮-৯ দিনের দিন গুটি ফুস্কুড়িতে পরিমাণ হয় এবং থাকতে শুরু করে এই সকল জ্বর হতে পারে এরপর ১৪ থেকে ১৫ দিনের দিন গুটিগুলি শুকতে থাকে এবং মামড়ি পড়ে যায়। আরও ২-৩ দিন পর থেকেই এই মামড়ি খসে যেতে থাকে এবং ঐ অংশে দাগ থেকে যায়। Small Pox বা গুটিবসন্ত একটি সংক্রামক ও মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ ছিল, Variola Virus দ্বারা সৃষ্ট একসময় এটি বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের মৃত্যুর কারণ হলেও, ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্যের সংস্থা (WHO) এটিকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নির্গত ঘোষণা করে।
কারণ (Reason)
Small Pox হয় Variola Virus দ্বারা সংক্রমিত হলে। এই ভাইরাসের দুটি ধরন ছিল: রোগীর সংস্পর্শে থেকে তার হাঁচি, কাশি ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর প্রবেশ করা, এ ছাড়া রোগীর পোষাক ও বিছানা প্রভৃতি থেকেও জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে।
১. Variola major - বেশি মারাত্মক
২. Variola minor - তুলনামূলক কম মারাত্মক
সংক্রমণের প্রধান মাধ্যম
• ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে বা বিছানায় চাদর
• আক্রান্তের চামড়ার ফোস্কার তরল
• আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ড্রপলেট
লক্ষণ ও উপসর্গ
সংক্রমণের ৭-১৭ দিন পর সাধারণত লক্ষণ দেখা দিতে।
প্রাথমিক লক্ষণ
১. হঠাৎ উচ্চ জ্বর ১০৩⁰- ১০৪⁰ ফাঃ পর্যন্ত হতে পারে
২. পিঠে ব্যথা
৩. বমি ভাব বা বমি
৪. শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা
৫. চক্ষু ব্যথা
৬. গলা ব্যথা
৭ নাসিকা ব্যথা
৮. চক্ষু লালাভ হয়
৯. তীব্র মাথা ব্যাথা
১০. ৪-৫ দিনের মধ্যে সমস্ত উদ্ভিদ বের হয়ে যায় এবং জ্বর কমতে শুরু করে
১১. ২-১ দিন পর উদ্ভিদ বের হতে শুরু হয়
পরবর্তী লক্ষণ
১. পরে শুকিয়ে খোসা পড়া স্থায়ী দাগ
২. ফোস্কার ভেতরে পুঁজ জমা
৩. মুখে ও জিহ্বায় লাল দানা
৪ ধীরে ধীরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ও ফোস্কা
৫. গুটি নির্গমন শেষ হলেও জ্বর কমতে শুরু করে
৬. চামড়ার ভাঁজ খাওয়া অংশে উদ্ভিদ নির্গত হয় না
Small Pox এর দাগ অসাধারণ স্থায়ী হতো, যা এই রোগের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
চিকিৎসা পদ্ধতি (Treatment)
• রোগীকে আলাদা রেখে পরিচর্যা
• সেকেন্ডারি সংক্রমণ প্রতিরোধ
• পানিশূন্যতা রোধ
• জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ
বর্তমান কিছু অ্যান্টিভাইরাল গবেষণা ধীন থাকলেও যেহেতু রোগটি নির্মূল, তাই অসাধার চিকিৎসায় এগুলি ব্যবহৃত হয় না।
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
শুশ্রূষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগীকে সর্বদা আলো-বাতাস পূর্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়া যুক্ত ঘরে রাখতে হবে। রোগীকে অবশ্যই মশারির ভিতরে রাখতে হবে। রোগীকে প্রত্যহ গরম জলে গামছা ভিজিয়ে স্পঞ্জিং করতে হবে। সেই সঙ্গে ঠান্ডা জল মাথা ধোয়ানোও দরকারী। জ্বর ছাড়ার পর অর্থাৎ রোগীর শেষ পর্যায়ে ডেটল বা স্যাভলন জলে মিশিয়ে স্নান করাতে হবে, শুশ্রূষা কারীকে সর্বদা অ্যান্টিসেপটিক কেয়ার গ্ৰহণ করতে হবে
অনুরোধ করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
