বিবরণ
ইয়া একটি ভাইরাস সংক্রমণ জনিত রোগ। এই রোগ আমাদের দেশে খুবই কমই হয়। রক্ত, যকৃত, পৌষ্টিকতন্ত্র প্রভৃতি এই রোগে আক্রান্ত হন। যে কোন বয়সে হতে পারে। Yellow Fever (পীতজ্বর বা ইয়েলো ফিভার) একটি ভাইরাস জনিত সংক্রামক রোগ, যা মূলত সংক্রমিত মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই রোগটি বেশি দেখা যায় আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে। রোগের নাম Yellow Fever (পীতজ্বর বা ইয়েলো ফিভার) হওয়ার কারন হল গুরুতর অবস্থায় রোগীর চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
Reason কারণ
Yellow Fever পীতজ্বর বা ইয়েলো রোগের মূল কারণ হলো Yellow Fever Virus, বা Flavivirus পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
সংক্রমণের প্রধান মাধ্যম
১. Aedes প্রজাতির মশা
২. Haemagogus মশা (বনাঞ্চলে বেশি পাওয়া যায়)
যেভাবে সংক্রমণ ঘটে
• ঈডিস নামক এক প্রকার মশা এই রোগ একজন থেকে অন্য জনের শরীরে বহন করে
• ফ্লেভিভাইরাস নামক রোগের জীবাণু এই রোগ ঘটায়
• ধীরে ধীরে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত করে
• ভাইরাস মানুষের রক্তের প্রবেশ করে
• সংক্রমিত মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে
মানুষ থেকে মানুষের সরাসরি এই রোগ ছড়ায় না।
Symptoms লক্ষণ
এই রোগ চারটি ধাপে প্রকাশ পায়। প্রতিটি ধাপ সম্বন্ধে বর্ণনা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপ
১. গা-হাত পা ম্যাজম্যাজ করে
২ ঘুম ভাব
৩. দুর্বলতা ও ক্লান্তি
৪. ক্ষুধামন্দা
৫. তীব্র মাথা ব্যথা
৬. গা- বমি ভাব
৭. চোখ লাল হয়ে যাওয়া
৮. সর্বাঙ্গে ব্যথা অনুভব প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়
দ্বিতীয় ধাপ
১. শীত ও কাঁপুনি সহ জ্বর আসে
২. মাথার যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়
৩. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
৪. সর্বাঙ্গে যন্ত্রণা হতে পারে
৫. ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
৬. পায়খানা পরিষ্কার হয় না
তৃতীয় ধাপ
১. জ্বর কমে
২. যন্ত্রনা কমে
৩. এমনকি জ্বর ছেড়ে রোগী সুস্থ ও হয়ে যেতে পারে
চতুর্থ ধাপ
১. তৃতীয় ধাপে রোগী সুস্থ না হলে সমস্যা জ্বর সহ
২. রক্ত ও শ্লেষ্মাযুক্ত
৩ পায়খানা
৪. বমি
৫. পৌষ্টিক তন্ত্রে থেকে মারাত্মক রক্তস্রাব
৬. সারা শরীর হরিদ্রাবর্ণ হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়
৭. এই অবস্থায় রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে
সহায়ক চিকিৎসা
• গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হন
• লিভার ও কিডনি ফাংশন পর্যবেক্ষণ
• বেশি পরিমাণে তরল গ্ৰহণ
• পর্যাপ্ত বিশ্রাম
জ্বর কমানোর ওষুধ (Paracetamol)
Ibuprofen ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
মশা থেকে সুরক্ষা
১. মশারি ব্যবহার করবেন
২. জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা
৩. পূর্ণ হাতা পোশাক পরা
৪. মশা নিধন স্পে
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
১. রোগীকে আলোকপূর্ণ ঘরে
২ খোলা বাতাসে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিছানায় থাকার ব্যবস্থা করতে হবে
৩ রোগী ভোগ কালীন এবং রোগ সারার পরও রোগীর কিছুদিন বিশ্রামে থাকা দরকার
৪. জ্বর বাড়লে গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে স্পঞ্জিং করা
৫. এবং মাথার ঠান্ডা জল ব্যবহার করা ভালো
৬. জ্বর ছাড়া সময় সম্পূর্ণ পরিমাণে জল খাওয়ানো ভালো
৭. এতে শরীর দুর্বল হওয়ার হাত থেকে রেহাই পায়
৮. ক্ষুধা ভালো হয় এবং পায়খানা পরিষ্কার হয়
৯. পীত জ্বরের রোগীকে জ্বর অবস্থায় তরল খাদ্য যেমন গ্লুকোজের জল
১০. মিছরির জল
১১. কমলার রস বা বেদানার রস
১২. আঙ্গুরের রস প্রভৃতি খেতে দেওয়া ভালো
১৩. রোগী একটু সুস্থ হলে সুসিদ্ধ ভাত
১৪. চারাপোনার ঝোল
১৫. পটলপাতা ভাজা
১৬. ডিম সিদ্ধ ও রুটি প্রভৃতি খেতে দেওয়া ভালো
১৭. ফলমূল প্রভৃতি ও খাওয়া চলবে
এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
