Chicken pox বিবরণ
ইহা শিশু ও বয়স্কদের অতি সংক্রমণ ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই রোগের ফলে চর্ম শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী প্রভৃতি জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়
রোগ আক্রমণের সময় এই রোগ পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে অন্য বয়সে হতে পারে। আক্রান্ত তন্ত্র চর্ম অস্থি বহিঃক্ষরাতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র এই জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয়।
আক্রান্ত লিঙ্গ স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ের সমান ভাবে এই রোগ হতে পারে। সময় রোগ জীবাণুর শরীরে প্রবেশের এগারো থেকে ষোলো দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।
কারণ Causes of the disease
• রোগীর হাঁচি
• কাশি
• রোগ জীবাণু বের হয়ে সুস্থ মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়
• এছাড়া উদ্ভেদের রস বা খুস্কি ওঠার সময় সংলগ্ন পুঁজ সুস্থ ব্যক্তির চর্মে লেগে জীবাণু ও সংক্রামিত হতে পারে
• হাপিরস রোগের জীবাণু ভ্যারিসেল্লা জস্টার ভাইরাস ( Varicella Zoster Virus) এই রোগ ঘটায়
লক্ষণ Symptoms of the disease
প্রথম ধাপ
• গা হাত ম্যাজ ম্যাজ করা
• শীতভাব
• মাথা ধরা
• গায়ে হাতে সর্বাঙ্গে ব্যাথা
• সামান্য জ্বর হতে পারে
• এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই জ্বর বাড়তে শুরু করে ১০১⁰ থেকে ১০২⁰ ফাঃ পর্যন্ত হয়ে যায়
• এই সময় থেকেই উদ্ভিদ বের হতে শুরু করে
• উদ্ভিদের প্রচন্ড চুলকানি থাকে
• জল বসন্তের উদ্ভেদ ধড় অংশ অর্থাৎ গলদেশ থেকে কোমর পর্যন্ত অংশে ব্যাপকভাবে বের হয়
• বাহুর ঊদ্ধাংশ
• হাঁটুর ঊদ্ধারংশ
• মুখের ভিতর
• গলার ভিতর
• চামড়ার ভাঁজ বিশেষতঃ বগলে
• যোনির মিউকাস মেমব্রেনেও এই উদ্ভেদ বের হয়
দ্বিতীয় ধাপ
• জল বসন্তের উদ্ভেদ সূচালো অগ্ৰভাব যুক্ত এবং ফোস্কা আকৃতির হয়
• এই উদ্ভেদ খুব বড় বড় হয়
• গুটিতে প্রথম অবস্থায় জলবৎ তরল থাকে
• ক্রমশঃ এই জলবৎ পদার্থ সাদা দুগ্ধবৎ তরল এবং আরও পরে কালো পদার্থে পরিণত হয়
• এরপর এগুলি শুকিয়ে কে যায় এবং মামড়ি উঠতে থাকে
• গুটি নির্গমন থেকে পেকে শুকিয়ে মামড়ি ওটা পর্যন্ত তিন সপ্তাহ সময় লাগে
• খুস্কি ওঠার পর বেশি দিন দাগ থাকে না
• তবে উদ্ভেদ পাকার পর গলে বড় ক্ষতের সৃষ্টি হলে দাগ মেলাতে বহুদিন সময় লাগে
আনুষঙ্গিক চিকিৎসা
• রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে এবং আলো বাতাস পূর্ণ শুষ্ক এবং দূষণ মুক্ত ঘরে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
• জ্বর ছাড়ার পর প্রত্যহ ঈষদুষ্ণ জলে Dettol বা Iteol 3 মিশিয়ে স্নান করাতে হবে
• রোগের প্রথম অবস্থায় দুধ, গ্লুকোজের জল, মিছরির জল, ফলের রস, প্রভৃতি খেতে দিতে হবে
• একটু সুস্থ হলে সুসিদ্ধ ভাত, ডাল সিদ্ধ, মাছের ঝোল, মাংস, ডিম, সয়াবিন, ছোলা মটর ভেজানো, সবুজ শাকসবজি, প্রভৃতি দিতে হবে
• এছাড়া প্রোটিনেক্স পাওডার বা Nurrish বা প্রোটিনিউলস পাওডার প্রভৃতি খেতে দেওয়া ভালো
• এই সময় রোগীকে নিরামিষ খাওয়ানোর নামে কখনই প্রোটিন খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়
• তাতেই রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে
অনুরোধ করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন
