সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Tuberculosis Symptoms and causes of the disease: যক্ষ্মা রোগ, কারণ ও লক্ষণ, আনুষঙ্গিক চিকিৎসা

 

Tuberculosis Symptoms and causes of the disease

বিবরণ 

১. মধ্যকর্ণ 

২. অস্থি সন্ধি 

৩. মস্তিষ্ক আবরণী ঝিল্লি (Meninges) কিডনি 

৪. চর্ম 

৫. নাসিকা গ্ৰন্থি 

৬. ফুসফুস 

প্রভৃতি এক বিশেষ ধরনের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। এবং ঐ জীবাণু মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং ব্যাপকভাবে বংশবিস্তার করে সমস্ত শরীরে পড়ে 

এর ফলে মানুষটি ক্রমশ রোগাক্রান্ত হয়ে হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয় এই জীবাণুরা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিককে ধ্বংস হয় না।

আক্রান্ত তন্ত্র 

• ফুসফুস 

• পৌষ্টিক তন্ত্র 

• চর্ম 

• মূত্রযন্ত্র 

• স্নায়ুতন্ত্র 

• নাসিকা তন্ত্র 

• রক্ত

• আন্তঃক্ষরাগ্ৰন্থি

• কঙ্কালতন্ত্র 

প্রভৃতি অংশ আক্রান্ত হয় তবে ফুসফুসের যক্ষ্মাই বেশি হতে দেখা যায়। আক্রমণের বয়স সব বয়সেই হতে পারে। আক্রান্ত লিঙ্গ মহিলাদের চেয়ে পুরুষেরাই অধিক আক্রান্ত হয়। 



কারণ Reason 

১. আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকা

২. দারিদ্রতা পূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস 

৩. অপুষ্টিতে ভোগা 

৪. ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস 

৫. ধূলো ও ধোঁয়া যুক্ত এলাকায় বাস 

প্রভৃতি থেকে এই রোগ হতে পারে।

১. যক্ষ্মা রোগীর কফ 

২. কাশি 

৩. হাঁচি 

৪. মল 

প্রভৃতির মাধ্যমে রোগের জীবাণু বাতাসের ছড়িয়ে পরে এবং তা সুস্থ মানুষের নাক মুখ দিয়ে ফুসফুসে চলে যায়। রোগী সবল হলে ঐ জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্য হয়।

কিন্তু দুর্বল রোগীর ক্ষেত্রে জীবন ধ্বংস না হয়ে বংশবিস্তার শুরু করে দেয়। ক্রমশঃ এই জীবাণু শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবাণুরা ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে ফুসফুসের ক্ষয় রোগ শুরু হলে তাকে ফুসফুসের যক্ষ্মা বা Pulmonary Tuberculosis বলা হয়।



লক্ষণ Symptoms 

প্রথম 

১. গা হাত পা ম্যাজ ম্যাজ করা 

২. শরীর কৃশ ও দুর্বল হওয়া 

৩. সামান্য জ্বর ভাব 

৪. ক্ষুধা মন্দ হওয়া 

৫. কাজকর্মে মন না বসা 

৬. মাথা ধরা 

৭. মাথা ঘোরা ভাব 

৮. সামান্য কাশি হওয়া 

৯. পেটে গন্ডগোল হতে থাকে 

১০. কাশিতে গয়ের না ওটা বা ফুললে তাতে রক্তের ছিট থাকে 

দ্বিতীয় 

১. প্রত্যহ সন্ধ্যায় জ্বর আসে ও সকালে কমে যায় 

২. রাতে ঘাম হয় 

৩. দুর্দান্ত ভাব কাশি চলতে থাকে 

৪. কখনো কফ ওঠে কখনো ওঠে না 

৫. ওজন কমে যায় 

৬. শরীর ক্রমশঃ কৃশ ও দুর্বল হতে থাকে 

৭. কাশির সময় বুকে ব্যাথা লাগে 

৮. শ্বাসকষ্ট হয় 

৯. নাড়ীর গতি দ্রুত হয় 

১০. শ্বাসের গতি বৃদ্ধি পায় 

১১. কাশির সাথে রক্তটা 

১২. রক্তকাশ 

১৩. কফের সাথে প্রচুর রক্ত বের হওয়া প্রভৃতি হতে দেখা যায় 

১৪. ক্ষুধা মন্দা 

১৫. পেটের গন্ডগোল প্রভৃতি বাড়তে থাকে 

১৬. ফুসফুস ছাড়া অন্যান্য স্থানের ক্ষত রোগের লক্ষণ খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় 



আনুষঙ্গিক চিকিৎসা 

• যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীকে অতি অবশ্যই বাড়িতে অন্যান্য সদস্যদের থেকে পৃথক স্থানে রাখতে হবে 

• চিকিৎসার শুরু হওয়ার পনেরো দিন পর অবশ্যই ঐ রোগীর রোগ বিস্তার ক্ষমতা কমে যায়। তখনো অল্প অল্প মেলামেশা চলবে 

• রোগীর বিছানা ও বালিশ বাসন পত্রাদি পৃথক রাখতে হবে 

• রোগীর মল ও মূত্র পৃথক ভাবে ত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে 

• রোগীর শুশ্রূষা কারী অবশ্যই সাবান জলে হাত ধোবেন এবং রোগীর ঘরে ফিনাইন বা ডেটল ছড়িয়ে পরিস্কার করবেন 

• রোগ আক্রমণের প্রথমদিকে রোগীকে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে 

• এক মাস পর থেকে নির্মল বাতাস সেবন এবং প্রাতঃভ্রমণ উপকারী 

• তিন থেকে চার মাস চিকিৎসা পর হালকা কাজকর্ম করা চলবে 

• যক্ষ্মা রোগীর প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খাবার খাওয়া হয় দরকার 

• ভাত, রুটি, সকল প্রকার ডাল, সুজি, বিস্কুট, সকল প্রকার শাকসবজি, দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ঘি, দই, মাকুম, পাকা কলা, পেয়ারা, আপেল, মুসাফির লেবু, টমেটো, ছোলা মটর, প্রভৃতি খাওয়া ভালো 

এই আর্টিকেলটি পড়ে কোনো রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারবাবুর সঙ্গে পরামর্শ করুন।





এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Carcinoma Of The Oesophagus cancer symptoms use in bangali খাদ্যনালীতে ক্যান্সার

  রোগের বিবরণ খাদ্যনালীর নিম্ন প্রান্তের ভিতরের দিকের ত্বকের যে কোন কোষের উৎকট ধরনের বৃদ্ধি এবং তার ফলে পার্শ্ব বর্তী টিস্যু সমূহে তার প্রভাব পড়া এবং আরও পরে এই রোগ অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়াকে খাদ্যনালী কার্সি নোমা বা কর্কটরোগ বলা হয়। আক্রান্ত তন্ত্র পৌষ্টিকতন্ত্র এই রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়। আক্রমণের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এই রোগ বেশি হয়। ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে ও এই রোগ হতে পারে। আক্রান্ত লিঙ্গ মহিলাদের চেয়ে পুরুষেরা এই রোগে আড়াই গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। রোগের কারণ সঠিক কারণ অজানা। ধূমপান মদ্যপান খাদ্যনালির প্রদাহে দীর্ঘদিন ভোগা এবং তা থেকে ক্ষতের সৃষ্টি হওয়া প্রভৃতি থেকে এই রোগ হতে পারে। রোগের লক্ষণ ১ হাতের আঙুলের নখের গোড়ায় দিকের স্বাভাবিক বক্রতা নষ্ট হয়ে যায়। ২ খাদ্যনালির অবরোধ ঘটতে পারে। ৩ খাদ্য বস্তুর পাকস্থলীতে পৌঁছাতে পারে না। ৪ দ্রুত শরীরের ওজন কমে যায়। ৫ খাদ্য গিলে খাবার পর তা যখন খাদ্যনালির বরাবর নামে তখন অত্যধিক কষ্ট হওয়া। ৬ যা একটানা চলতেই থাকে ইহা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। ৭ ঢেকুরের সাথে খাবার উগরিয়ে আসতে পারে। ৮ রাত্রে মুখে জল উঠতে পারে। ৯ কন্ঠাস্থির উপ...

How To Use Albendazole Tablets In Bangali অ্যালবেনডাজল কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

ইহা একটি বহুব্যাপক কৃমিনাশক ঔষধ। ইহা কৃমি দের গ্লুকোজের গ্রহনের বাধা দেয় ফলে কৃমিদের শক্তি সঞ্চয় কমে গিয়ে ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে ও তাদের সচলতা ব্যাহত হয় এবং ক্রমশ তা মালের সাথে নির্গত হয়। এই ঔষধ খুব সামান্য পরিমাণে পৌষ্টিক তন্ত্র থেকে শোষিত হয়। ইহা অধিকাংশই মলের সাথে নির্গত হয়ে যায়। ব্যবহার গোলকৃমি হুকওয়ার্ম সূতাকৃমি ফিতাকৃমি এবং হুইপওয়ার্ম প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয়। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা ধরা এবং মাঝে মাঝে পেটের গন্ডগোলের ইতিহাসে পাওয়া যায়। বমি ভাব মুখে শুষ্কতা কানের শব্দ হওয়া প্রভৃতি হতে পারে। আন্তঃবিক্রিয়া কোন ঔষধ বা খাদ্যের সাথে আন্তঃবিক্রিয়ার কোন ইতিহাস নেই। সাবধানতা গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে মহিলাদের এই ঔষধ খাওয়া নিষিদ্ধ। স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের ৭ দিনের মধ্যে ব্যবহার না করাই শ্রেয়।সদ্যোজাত শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ। যকৃতের মারাত্মক রোগের সময় এই ঔষধ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। ঔষধের ব্র্যান্ডনেম Tablets Albezole এই আর্টিকেলটি পড়ে কোন রকমের সিদ্ধান্তে আসার আগে যোগ্য ডাক্তার বাবুর সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করুন।

How To Use Ketoconazole in Bangali কেটোকোনাজোল এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  ইহা একটি বহুব্যাপক ছত্রাকনাশক ঔষধ। ইহা ট্রাইকোফাইটিন স্পেসিজ এপিডারমোফাইটন ফ্লোকোসাম মাইক্রোস্পোরাম স্পেসিজ ঈষ্ট পিটাইরোস্পোরাম স্পেসিজ প্রভৃতি ছত্রাক জীবাণুর উপর সক্রিয়। এই ঔষধ পৌষ্টিক তন্ত্রের থেকে দ্রুত এবং প্রায় সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয়।বাহ্যিক প্রয়োগের ঔষধের চর্মে প্রবেশ করার ক্ষমতা ও খুব ভালো। ব্যবহার দেহের চর্মের দাদ জননতান্ত্র সংলগ্ন অংশের দাদ পায়ের দাদ দেহের দাদ সকল অংশের হাজা রোগ ছুলি নখের ছত্রাক প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয়। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বমি ভাব বা বমি যকৃতের প্রদাহ পুরুষের স্তনের বৃদ্ধি চুল ওঠা ও চর্মের উদ্ভিদ পেটের গন্ডগোল বীর্যের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া প্রভৃতি ঘটে। আন্তঃবিক্রিয়া অ্যান্টাসিড সাইক্লোস্পোরিন ওয়ারফারিন ফিনাইটোইন রিয়ামপিসিন আইসোনায়াজিড অ্যালকোহল প্রভৃতির সাথে আন্তঃবিক্রিয়ার ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে দেখা যায়। সাবধানতা যকৃতের রোগ পেটের গন্ডগোলে খুব সাবধানতা সহকারে ব্যবহার করতে হবে। গর্ভবতী মহিলা স্তন্যদানকারী মাতা এবং ২ বছরের নিচের শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ। বাহ্যিক প্রয়োগের ঔষধ মুখগহ্বর নাসিকা ও চক্ষু সংলগ্ন অংশে ব্যবহার করা চলবে না। ...